মেনু নির্বাচন করুন

মাগুরার ঐতিহ্য

জেলা ব্র্যান্ডিং :
ব্র্যান্ড হচ্ছে একটি নাম, একটি টার্ম বা পরিচিতি যা কোনো বিক্রেতা বা বিক্রেতা গোষ্ঠীর পণ্য ও সেবার নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তোলে এবং প্রতিযোগীদের চেয়ে আালাদাভাবে উপস্থাপন করে।
অন্যভাবে বলতে গেলে ব্র্যান্ডিং হল কোন জিনিসকে বা পণ্যকে  সহজে  অন্যের নিকট পরিচিত করে তোলার প্রক্রিয়া।
জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্যকে বিবেচনায় রেখে জেলার সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে  তার স্বাতন্ত্র্যকে বিকশিত করার  লক্ষ্যে গৃহীত সার্বিক কর্ম-পরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়নের কর্মযজ্ঞই হচ্ছে জেলা ব্র্যান্ডিং। একটি জেলাকে সহজভাবে পরিচিত করার জন্য এবং অন্য জেলা থেকে সহজে আলাদা করার জন্য যে সকল পণ্য বা স্থাপনা বা অন্য ইতিহাস ঐতিহ্যের সাহায্য নেয়া হয়  সেগুলোকে  ওই জেলার ব্র্যান্ডিং বলা হয়।
জেলা ব্র্যান্ডিং এর উদ্দেশ্য :
জেলার চলমান উদ্যোগ এবং সম্ভাবনাসমূহকে বিকশিত করার মাধ্যমে জেলার সার্বিক উন্নয়ন ঘটানো এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে জেলাকে তুলে ধরা জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের মূল উদ্দেশ্য।
অন্যান্য উদ্দেশ্যসমূহ :
ভিশন-২০২১ ও  ২০৪১ অর্জনে জেলার সার্বিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে বেগবান করা
জেলার ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিনির্মাণের মাধ্যমে দেশকে আন্তর্জাতিক বিশ্বে পরিচিত করে তোলা

জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির লালন ও বিকাশ

জেলা ব্র্যান্ডিং এর উদ্দেশ্য (চলমান) :

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করে তোলা
জেলা ব্র্যান্ডিং এর মাধ্যমে এ জেলা তথা বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন করা
স্থানীয় উদ্যোক্তা তৈরি করা
জেলার সর্বস্তরের জনসাধারণকে উন্নয়নের মহাসড়কের সহিত সম্পৃক্ত করা
জেলার দারিদ্র্যতা ও বেকারত্ব দুর করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা
পর্যটন শিল্পের বিকাশ সাধনের মাধ্যমে দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন তরান্বিত করা
মাগুরা জেলা ব্র্যান্ডিং:
বাংলাদেশের প্রত্যেকটি জেলার স্বাতন্ত্র্য এবং সম্ভাবনাকে বিকশিত করার লক্ষ্যে জেলা-ব্র্যান্ডিংয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
মাগুরা জেলার ব্র্যান্ডিং এর ক্ষেত্রে জেলাটির ইতিহাস, ঐতিহ্য, উৎপাদিত পণ্য এবং এ জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। 
মাগুরা জেলা পরিচিতি:
—বাংলাদেশের ছোট জেলাসমূহের মধ্যে একটি মাগুরা
—এর উত্তরে রাজবাড়ি
—দক্ষিণে যশোর ও নড়াইল
—পূর্বে ফরিদপুর জেলা এবং
—পশ্চিমে ঝিনাইদহ জেলা অবস্থিত
—এর চারটি উপজেলা নদীবিদৌত এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত।
মাগুরার নামকরন:
মহকুমা সদরের পূর্বে মাগুরা ও পশ্চিমে ছিল দরি মাগুরা। দরি শব্দের অর্থ মাদুর বা শতরঞ্জি। দরি মাগুরায় মাদুর তৈরি সম্প্রদায়ের লোক বাস করতো বলে নাম হয়েছিল দরি মাগুরা।
মগরা থেকে মাগুরা নামের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
লোক মুখে শোনা যায় যে, এখানে প্রচুর মাগুর মাছ পাওয়া যেত সেই মাছের নাম অনুসারে মাগুরা নামের উৎপত্তি।
মাগুরা জেলার ইতিহাস:
—বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে এক সমৃদ্ধ জনপদের নাম মাগুরা।
—মুলত মগ জলদস্যুদের হাত থেকে এ জেলার উত্তরাঞ্চলের জন সাধারণকে রক্ষা করার জন্যই ১৮৪৫ সালে যশোর জেলার প্রথম মহকুমা করা হয় মাগুরাকে।
—মহকুমা হবার আগে মাগুরা অঞ্চল ভূষণা ও মহম্মদপুর নামেই সুবিখ্যাত ছিল।
—পাল রাজত্বের সময় এ অঞ্চলের উত্তর ও উত্তর পূর্ব অংশ শ্রীপুর ও রাজাপুর নামে পরিচিত ছিলো। দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব অংশ ভূষনা।
—পরবর্তীতে দেশ স্বাধীন হবার পর প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসাবে মাগুরাকে ১৯৮৪ সালে মহকুমা থেকে জেলায় উন্নীত করা হয়।
— মাগুরা জেলা মোট ৪টি উপজেলা রয়েছে নিয়ে গঠিত।
জেলার ঐতিহাসিক স্থান ও পুরাকীর্তি:
—পীর গরীব শাহের মাজার, শ্রীপুর।
—আঠারোখাদা সিদ্ধেশ্বরী মঠ, মাগুরা সদর।
—ভাতভিটা টিলা, মাগুরা সদর, মাগুরা
—রাজা সীতারাম রায়ের রাজবাড়ী, মহম্মদপুর।
—রাজা শত্রুজিৎ রায়ের বাড়ী, মাগুরা সদর।
—সাতদোহার ন্যাংটা বাবার সমাধি, মাগুরা সদর।
—শ্রীপুরে বৌদ্ধ আমলের বিরাট রাজার রাজধানীর ধ্বংসাবশেষ, শ্রীপুর।
—সিন্ধাইনের প্রাচীন লোহার কারখানার ধ্বংসাবশেষ,শালিখা।
—নদেরচাঁদ ঘাট, মহম্মদপুর।
—গোপালগ্রাম মসজিদ, মাগুরা সদর।
অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থাপনাসমূহ:
—রাজা রামচন্দ্রের বাড়ি ও পদ্নপুকুর
—রামসাগর
—সুখসাগর
—পঞ্চরত্ন মন্দির ও কৃষ্ণসাগর
—পদ্মপুকুর
—রায়নগরের মঠ
—সত্রাজিৎপুর মদনমোহন মন্দির
—ভূষণা দুর্গ
—সিদ্ধেশ্বরী মঠ
—শ্রীপুর জমিদার বাড়ী
—হজরত পীর মোকাররম আলী শাহ (র:) এর দরগাহ
—নেংটা বাবার আশ্রম ও মন্দির 
—রাজা রামচন্দ্রের বাড়ি ও পদ্নপুকুর
—রামসাগর
—সুখসাগর
—পঞ্চরত্ন মন্দির ও কৃষ্ণসাগর
—পদ্মপুকুর
—রায়নগরের মঠ
—সত্রাজিৎপুর মদনমোহন মন্দির
—ভূষণা দুর্গ
—সিদ্ধেশ্বরী মঠ
—শ্রীপুর জমিদার বাড়ী
—হজরত পীর মোকাররম আলী শাহ (র:) এর দরগাহ
—নেংটা বাবার আশ্রম ও মন্দির 
রাজা সীতারাম রায়ের কীর্তিসমূহ:
মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলার পূর্ব নারায়ণপুর গ্রামে অবস্থিত কিংবদন্তীর রাজা সীতারাম রায়ে কীর্তিসমূহ।
এটি একটি স্থাপত্য কমপ্লেক্স।
সম্পূর্ণ এলাকাটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সীতারাম রাজার প্রাসাদ, দোলমঞ্চ, লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির, তোষাখানা, কাচারি বাড়ি, দশভূজা মন্দিরসহ বিভিন্ন ইমারতের ধ্বংসাবশেষ।
 স্থাপত্য কাঠামোসমূহ মোগল আমলে নির্মিত ধর্মীয় ও সেক্যুলার স্থাপনা।
স্থাপত্যসমূহ নির্মাণে চুন সুরকি ও ইট ব্যবহার করা হয়েছে।
ইটের আকৃতি বর্গাকার।
দোলমঞ্চ মন্দির:
—মোহাম্মদপুর দুর্গনগরীর উত্তর-পূর্ব কোণেৃর দিকে এবং দুর্গ তোরণের কাছে পরবর্তীকালে নাটোরের মহারাজা রামচন্দ্র কর্তৃক খনিত পদ্মদিঘির প্রায় ৫০০মিটার উত্তরে একটি বিরাট দোলমঞ্চ রাজা সীতারাম কর্তৃক নির্মিত হয়েছিল।
—বর্গাকারে নির্মিত নিচের প্রকাণ্ড বেদির উপরে ছিল অপেক্ষাকৃত ছোট ও সামঞ্জস্যপূর্ণ দ্বিতীয় ও তৃতীয় বেদি।
— তৃতীয় বেদির উপরে ছিল দোলমঞ্চের চূঁড়া।
— মোঘল ও হিন্দু স্থাপত্যের সমন্বয়ে গঠিত মঞ্চের চূঁড়াটি গম্বুজাকারের হলেও চতুষ্কোণ ও কিছুটা দীর্ঘাকৃতির ছিল।
— এখানেই হোলি উৎসবের সময়ে রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ স্থাপন করা হত।
— দোলমঞ্চটি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ অবস্থায়  এখনও টিকে আছে

Share with :

Facebook Twitter